Tuesday, July 18, 2017

ঘুরে আসুন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলা ভূমি মনপুরা দ্বীপ, ভোলা


লিখেছেনঃ মমিন সিকদার, ভোলা।

 প্রাণী ও উদ্ভিদ সম্পদের বৈচিত্রে ভরপুর এ দ্বীপে না আসলে বোঝাই যাবে না এ দ্বীপ উপেজলায় কি মায়া লুকিয়ে আছে। পর্যটক বা ভ্রমণ পিপাসু মানুষকে মুগ্ধতার বন্ধনে আটকে দেয়ার বহু জাদু ছড়ানো আছে এ দ্বীপে। এখানে ভোরের সূর্য ধীরে ধীরে পৃথিবীতে তার আগমনী বার্তা ঘোষণা করে। আবার বিকালের শেষে এক পা-দুপা করে সে আকাশের সিঁড়ি বেয়ে লাল আভা ছড়াতে ছড়াতে পশ্চিমাকাশে মুখ লুকোয়। রাতে নতুন শাড়িতে ঘোমটা জড়ানো বধুর মত সলাজ নিস্তব্ধতা ছেয়ে যায় পুরো দ্বীপ।
জমির শাহ পূর্ণ সাধকের স্মৃতি বিজড়িত এই মনপুরা দ্বীপের ইতিহাসে বেশ প্রাচীন। সাতশ বছর আগে পর্তুগিজ জলদস্যুদের আস্তানা ছিল মনপুরায়। তাই আজও এখানে পর্তুগিজদের নিয়ে আসা কেশওয়ালা লোমশ কুকুর দেখতে পাওয়া।
মনপুরার প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে হাজার হাজার একরের ম্যানগ্রোভ বন।
 যেখানে জীবিত গাছের সংখ্যা এক কোটিরও বেশি। মাইলের পর মাইল বৃক্ষরাজির বিশাল ক্যানভাস মনপুরাকে সাজিয়েছে সবুজের সমারোহে।
মনপুরার বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চল চর তাজাম্মুল, চরজামশেদ, চরপাতিলা, চর পিয়াল, চরনিজাম, লালচর, বালুয়ারচর, চর গোয়ালিয়া, সাকুচিয়াসহ ছোট-বড় ১০-১২টি চরে বন বিভাগের প্রচেষ্টায় চলছে নীরব সবুজ বিপ্লব। চোখ ধাঁধানো রূপ নিয়েই যেন এসব চরের জন্ম। চরগুলো কিশোরীর গলার মুক্তোর মালার মতো মনপুরাকে ঘিরে আছে। শীত মৌসুমে হাজার হাজার অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখর থাকে সমগ্র চরাঞ্চল।
 চরাঞ্চলের অতিথি পাখির উড়ে বেড়ানো, হরিনের পালের ছোটাছুটি, সুবিশাল নদীর বুক চিরে ছুটে চলা জেলে নৌকা, ঘুরে বেড়নো মহিষের পাল আর আকাশ ছোঁয়া কেওড়া বাগান কঠিন হৃদয়ের মানুষের মনও ছুঁয়ে যায়। চারদিকে নদীবেষ্টিত মনপুরায় নৌকা কিংবা সাম্পানের ছপছপ দাঁড় টানার শব্দ আর দেশি-বিদেশি জাহাজের হুঁইসেলের মিলে মিশে একাকার হলে মনে হয় কোনো দক্ষ সানাইবাদক আর তবলচির মন ভোলানো যুদ্ধ চলছে।

মনপুরায় যে শুধু প্রাকৃতিক দৃশ্যই দেখা যাবে তা নয়। গতানুগতিক সব খাবার ছাড়াও তিনটি স্পেশাল আইটেম আছে মনপুরার। এগুলো হচ্ছে খাসি পাঙ্গাস, মহিষের দুধের কাঁচা দই ও শীতের হাঁস।
নদী থেকে ধরে আনা টাটকা খাসি পাঙ্গাস আর চরাঞ্চলে ঘুরে বেড়নো মহিষের পাল (বাতান) থেকে সংগৃহিত কাঁচা দুধ বা দইয়ের স্বাদই আলাদা। তাছাড়া মেঘনার টাটকা ইলিশের স্বাদও ভোলা যায় না কখনো। মনপুরার দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে সরাকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন জায়গায় গড়ে উঠেছে মনপুরা ফিশারিজ লিমিটেড। ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ ও ২১০ একর জমিতে গড়ে ওঠা ওই খামারবাড়িতে সরকারি ব্যবস্থাপনায় গড়ে উঠতে পারে পর্যটন কেন্দ্র। এ খামার বাড়িতে রয়েছে বিশাল চার-পাঁচটি পুকুর ও বাগান। সেখানে নারিকেল গাছের সংখ্যা প্রায় দুই হাজার। দৃষ্টিনন্দন এ খামার বাড়িটি হতে পারে পর্যটকদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ।

ভোলা জেলার ইতিহাস সূত্রে জানা যায়, তেরশ শতাব্দীতে এ দ্বীপের উৎপত্তি হয়। তবে মানুষের বসবাস শুরু হয় ষোড়শ শতাব্দীতে। দ্বীপটি বাকলা চন্দদ্বীপের (বরিশালের পূর্ব নাম) জমিদারি প্রথার অন্তর্ভুক্ত ছিল। সে সময় কয়েকজন ইউরোপীয় পরিব্রাজক ডারথেমা লি ব্রাংক, সিজার ফ্রেডরিক ও মউনরিক এই দ্বীপ ভ্রমণে আসেন। এ সময় মি. মউনরিক তৎকালীন দক্ষিণ শাহবাজপুর ও চর মনপুরাকে উদ্ভিদ বৈচিত্র্য পরিপূর্ণ দ্বীপ হিসেবে চিহ্নিত করেন।
১৫১৭ সালে এই পরিব্রাজকরা তাদের ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য মনপুরাকে নির্বাচিত করে বসতি স্থাপন শুরু করেন। তখন এ দ্বীপটির অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, নদী জলাশয়ের মাছ, পশুসম্পদ, মহিষের দুধ, পনির এবং দই যে কোনো আগন্তুকের মন ভরিয়ে দিত বলে এই দ্বীপের নামকরণ করা হয় মনপুরা। তবে মনপুরার নামকরণ নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে।
ঐতিহাসিক বেভারিজ মনপুরার নামকরণ নিয়ে লিখেছেন, মনগাজী নামের এক ব্যক্তি সেই সময়ের জমিদারি থেকে মনপুরা চর লিজ নেন অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যভাগে। পরবর্তী সময়ে তার নামনুসারে এই দ্বীপটির নামকরণ করা হয় মনপুরা। স্থানীয় লোককাহিনী মতে, মনগাজী নামের এখানকার একজন মাঝি বাঘের আক্রমেণ প্রাণ হারালে এ চরের নাম হয়ে যায় মনপুরা। এই দ্বীপটি এক সময় হাতিয়া-সন্দ্বীপের সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং মোঘল শাসনামলে এখানে সন্দ্বীপের লোকেরা বসতি স্থাপন শুরু করে।
১৮৩৩ সালে মনপুরাকে ভোলার অধীনে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত দেয়া হয়। এর একশ বছর পর ১৯৮৩ সালে মনপুরা উপজেলায় উন্নীত হয়।

কিভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে মনপুরা যাওয়ার জন্য সদরঘাট থেকে সরাসরি লঞ্চ এ যাওয়াটাই বেশি উপভোগ্য এবং কম ঝামেলাপূর্ণ।

ঢাকার সদরঘাট থেকে যেতে হবে - ঢাকা থেকে মনপুরা যাওয়ার জন্য প্রতিদিন ২ টা লঞ্চ বরাদ্দ রয়েছে – ৪ টা লঞ্চ রোটেশন পদ্ধতিতে ডেইলি ২ টা করে ছেড়ে যায়, প্রতিদিন বিকাল ৫.৩০ মিনিট ও সন্ধ্যা ৬.৩০ মিনিট, লঞ্চ ১ মিনিট ও লেট করে না, বি কেয়ার ফুল। 
যাত্রা পথে লঞ্চ থেকে সূর্যাস্থ ও সূর্যাদয় দেখতে ভুলবেন না ।
আপনাকে নামতে হবে মনপুরা (রামনেওয়াজ লঞ্চ ঘাট)।

(ঢাকায় ফেরত যাবার লঞ্চ ছাড়ে দুপুর ২ টায়)
আরো কিছু জানতে হলে আমাকে ইনবক্স করতে পারেনঃ-  Momin Sikder
অথবাঃ ফোন করতে পারেন  ঃ- 01788550080

লঞ্চ থেকে নামার পরঃ 

রাম্নেওয়াজ ঘাট এ নামলে আপনাকে হোটেল বা আবাসন এর জন্য আপনাকে মটরসাইকেল/ ভ্যান এ যেতে হবে। মটরসাইকেল ভাড়া ১০০ টাকার মত।

থাকার ব্যবস্থাঃ 

ক্যাম্পিং করার জন্য আদর্শ জায়গা মনপুরা। চোর ডাকাতের বালাই নেই। আছে আদিগন্ত বেলা ভূমি। একটা ভালো জায়গা দেখে তাবু ফেলে নিন। পড়শীদের সাথে রফা করে রান্নার আয়োজন করতে পারবেন। আর যাদের তাবু নেই তারা নীচের হোটেল / বাংলো তে থাকতে পারেন (সাধারন মান)।

- হোটেল দ্বীপ 
- প্রেস ক্লাব গেষ্ট হাউস
- হোটেল আইল্যান্ডঃ সদর রোড, হাজিরহাট বাজার মনপুরা, ভোলা 
- কারিতাস হোটেলঃ হাজিরহাট বাজারের দক্ষিন পাশে মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠের সাথে = অবস্থিত।
- পানি উন্নয়ন বোর্ড ডাকবাংলোঃ উপজেলা সদরের হাজিরহাট বাজারের দক্ষিন পাশ্বে আবাসিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সামনে অবস্থিত 
- জেলা পরিষদ ডাকবাংলোঃ উপজেলা সদরের বাঁধের হাটের সরকারী দিঘীর পাশে জেলা পরিষদ ডাকবাংলোটি অবস্থিত। : 

এছাড়া চোধুরী সাহেবের বাংলো সহ আরো অনেক থাকার বোর্ডিং বা হোটেল আছে। দরদাম করে থাকতে পারবেন।

খাবার দাবারঃ

খাবার দাবার বেশি একটা ভালো পাবেন, সামুদ্রিক মাছ, মাংস, মোটা চালের ভাত, রুটি সব ই পাবেন, এখানে খাবারের রীতিমত আইটেম ছাড়াও বিশেষ বিশেষ কিছু খাবার না খেলে আপনার মনপুরা যাওয়া বৃথা, শীতের হাঁস, মহিষের কাচা দধি, টাটকা ইলিশ, বড় কই, মাগুর, কোরাল, বোয়াল ও গলদা চিংড়ি। মেঘনা নদী থেকে ধরে আনা টাটকা ইলিশ ও চর থেকে আনা কাঁচা দুধের স্বাদই আলাদা।

ধন্যবাদ.............


আরো কিছু জানতে হলে আমাকে ইনবক্স করতে পারেনঃ-  Momin Sikder
অথবাঃ ফোন করতে পারেন  ঃ- 01788550080

No comments:

Post a Comment